৫টি আইপিএল ২০২৬ রানতালিকার ভুল দর্শকেরা করেন
আইপিএল ২০২৬ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের দৌড়ে এখন শীর্ষে রয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের যশস্বী জয়সওয়াল। ৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচের পর জয়সওয়ালের মোট রান ১৭০, আর দিল্লি ক্যাপিটালসের সমীর রিজভি মাত্...
৫টি আইপিএল ২০২৬ রানতালিকার ভুল দর্শকেরা করেন
আইপিএল ২০২৬ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের দৌড়ে এখন শীর্ষে রয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের যশস্বী জয়সওয়াল। ৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচের পর জয়সওয়ালের মোট রান ১৭০, আর দিল্লি ক্যাপিটালসের সমীর রিজভি মাত্র ২ ম্যাচে করেছেন ১৬০ রান। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে জয়সওয়াল ৩২ বলে অপরাজিত ৭৭ রান করেন, যেখানে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা। রোহিত শর্মা এই পর্যায়ে রয়েছেন পঞ্চম স্থানে। তাই এই তালিকা চূড়ান্ত নয়; প্রতিটি ম্যাচের পর অরেঞ্জ ক্যাপের অবস্থান বদলাতে পারে। ২০২৬ সালের রান বিশ্লেষণে মোট রান, ম্যাচসংখ্যা, অপরাজিত ইনিংস, স্ট্রাইক রেট এবং দলের পরবর্তী সূচি একসঙ্গে দেখুন। শুধু বড় স্কোর দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। ক্রিকেট ভক্তের আপডেট অনুসরণ করে ম্যাচভিত্তিক তথ্য মিলিয়ে নিন, তারপরই সম্ভাব্য শীর্ষ রান সংগ্রাহক নিয়ে মত তৈরি করুন।

যশস্বী জয়সওয়ালের ৭৭ রানের ইনিংসটি তালিকায় বড় পরিবর্তন এনেছে। তবে ১৭০ রান এসেছে ৩ ম্যাচে, আর সমীর রিজভির ১৬০ রান এসেছে ২ ম্যাচে। এই পার্থক্যটি ছোট নয়। ম্যাচপ্রতি রান হিসাব করলে রিজভি এগিয়ে থাকেন, কিন্তু দীর্ঘ প্রতিযোগিতায় বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকেট ভক্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত এই দুই মাপকাঠিকে আলাদা রাখা। ৮ এপ্রিল গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে দিল্লি ক্যাপিটালসের ম্যাচটি রিজভির অবস্থান বদলাতে পারত। একইভাবে রাজস্থান রয়্যালসের পরবর্তী ম্যাচে জয়সওয়াল রান না করলে শীর্ষস্থান চাপের মধ্যে পড়বে। আইপিএল ২০২৬ ম্যাচ সূচি ও ফলাফল দেখে প্রতিটি দলের হাতে থাকা ম্যাচ গুনুন। অরেঞ্জ ক্যাপ কোনো স্থির পুরস্কার নয়; এটি চলমান রান-সংগ্রহের হিসাব। আর এই হিসাব বোঝার আগে পুরনো মৌসুমের তুলনা কীভাবে করা হতো, সেটিও জানা দরকার।
আরও বিশদ পরিসংখ্যান ও ম্যাচভিত্তিক পরিবর্তন দেখতে এই আপডেটটি সংরক্ষণ করুন।
২০২৫-এর আগে আইপিএল সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের হিসাব কীভাবে দেখা হতো?
২০২৫ সালের আগে আইপিএল সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকা সাধারণত মোট রান, ইনিংস, ব্যাটিং গড় এবং স্ট্রাইক রেটের ভিত্তিতে পড়া হতো। অরেঞ্জ ক্যাপের মূল মাপকাঠি ছিল মোট রান, কিন্তু দর্শকেরা প্রায়ই ম্যাচসংখ্যা ও অপরাজিত ইনিংস বাদ দিতেন। ফলে ১০ ম্যাচে ৪৫০ রান করা ব্যাটারকে ৬ ম্যাচে ৩৩০ রান করা ব্যাটারের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা ঠিক নয়। আইপিএলের ইতিহাস ও অরেঞ্জ ক্যাপের তথ্য দেখলে বোঝা যায়, দীর্ঘ মৌসুমে ধারাবাহিকতা বড় সুবিধা দেয়। একই সঙ্গে পাওয়ারপ্লে ব্যাটিং, মিডল-ওভার স্ট্রাইক রোটেশন এবং ডেথ-ওভারের বাউন্ডারি রান আলাদা করে দেখা দরকার। সমীর রিজভির মতো কম ম্যাচে দ্রুত রান করা ব্যাটারকে তাই “সাময়িক এগিয়ে থাকা” বলা যায়, কিন্তু নিশ্চিত চ্যাম্পিয়ন বলা যায় না। যশস্বী জয়সওয়ালের তিন ম্যাচের ১৭০ রান স্থায়িত্বের দিক থেকে বেশি পরীক্ষা পাস করেছে, যদিও মৌসুম তখনও শুরুর পর্যায়ে।
ভুলের তালিকাটি পরিষ্কার রাখুন:
- মোট রানকে ম্যাচপ্রতি রানের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না।
- একটি বড় ইনিংস দেখে পুরো মৌসুমের ধারাবাহিকতা ধরে নেবেন না।
- দলের সূচি, পিচ এবং ব্যাটিং অর্ডারও বিবেচনায় রাখুন।
- পুরনো মৌসুমের রান সরাসরি ২০২৬ সালের প্রাথমিক সংখ্যার সঙ্গে তুলনা করবেন না।

২০২৬ সালে আইপিএল রান তালিকায় কী বদলেছে?
২০২৬ সালের শুরুর পর্যায়ে বদলটি এসেছে মূলত ছোট নমুনা ও দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের কারণে। ১৩টি ম্যাচ শেষে যশস্বী জয়সওয়াল ১৭০ রানে প্রথম, সমীর রিজভি ১৬০ রানে দ্বিতীয়, আর রোহিত শর্মা পঞ্চম স্থানে রয়েছেন। জয়সওয়ালের মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ৩২ বলে ৭৭ রানের ইনিংসটি ১০ চার ও ৪ ছক্কায় তৈরি; অর্থাৎ বাউন্ডারি-নির্ভর আক্রমণ তাঁর অবস্থান দ্রুত বাড়িয়েছে। রিজভির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুই ম্যাচে ১৬০ রান, যা তাঁকে উচ্চ ম্যাচপ্রতি রান হারে রেখেছে, কিন্তু পরবর্তী ইনিংসের চাপও বাড়িয়েছে। ইএসপিএনক্রিকইনফোর ম্যাচ স্কোরকার্ড থেকে বলপ্রতি রান, আউটের ধরন এবং ব্যাটিং অবস্থান যাচাই করা যায়। এই তথ্যগুলো দেখায়, ২০২৬-এর প্রাথমিক তালিকায় “কে প্রথম” প্রশ্নের পাশাপাশি “কত ম্যাচে প্রথম” প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এখানেই সাধারণ দর্শক সবচেয়ে বেশি ভুল করেন।
আরেকটি ব্যবহারিক দিক আছে। কোনো ব্যাটার ওপেনার হলে প্রতি ম্যাচে রান করার সুযোগ বেশি, কিন্তু তিন বা চার নম্বরে নামা ব্যাটার কখনও কখনও কম বল পান। তাই জয়সওয়াল, রিজভি এবং রোহিত শর্মার তুলনায় ব্যাটিং পজিশন লিখে রাখা দরকার। ব্যাটিং গড় ও স্ট্রাইক রেট বোঝার নির্দেশিকা এই হিসাব সহজ করে। দলীয় জয়ও আলাদা সংকেত দেয়; রাজস্থান রয়্যালসের জয়ের ধারায় জয়সওয়ালের অবদান থাকলেও গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে দিল্লি ক্যাপিটালসের ফল রিজভির তালিকাগত অবস্থান পাল্টাতে পারে। ক্রিকেট ভক্তের বিশ্লেষণে তাই রান, সুযোগ এবং ম্যাচ-ফল—এই তিনটি স্তর আলাদা থাকবে। আইপিএল কর্তৃপক্ষের সরকারি স্কোরকার্ডই চূড়ান্ত উৎস; সামাজিক মাধ্যমের গ্রাফিক নয়।
এই সংখ্যাগুলো দ্রুত বদলায়। নির্ভরযোগ্য উৎস মিলিয়ে দেখার অভ্যাসই এখানে আসল সুবিধা।
দর্শকেরা আইপিএল ২০২৬ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক নিয়ে কী বদলেছে?
দর্শকেরা এখন শুধু মোট রান নয়, ম্যাচপ্রতি রান, ব্যাটিং পজিশন, অপরাজিত ইনিংস এবং পরবর্তী সূচিও দেখছেন। এর কারণ ২০২৬ সালের প্রথম ১৩ ম্যাচে যশস্বী জয়সওয়াল ও সমীর রিজভির ব্যবধান মাত্র ১০ রান, কিন্তু তাঁদের ম্যাচসংখ্যার ব্যবধান ১। এই ছোট পার্থক্যই তালিকার ব্যাখ্যা বদলে দেয়। রোহিত শর্মার পঞ্চম অবস্থানও একই শিক্ষা দেয়: পরিচিত নাম থাকা মানেই শীর্ষে থাকা নয়। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিযোগিতা কাঠামো ও আইপিএলের ম্যাচ ফরম্যাট সম্পর্কে বিসিসিআইয়ের সরকারি তথ্য দেখা ভালো। “তালিকার অবস্থান একটি চলমান ফলাফল, চূড়ান্ত রায় নয়”—এই নীতিটি ২০২৬ সালের জন্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য। অর্থাৎ দর্শকের সিদ্ধান্তে সময়ের তারিখ লিখতে হবে, যেমন ৮ এপ্রিল ২০২৬। তারিখ ছাড়া রানতালিকার কোনো স্ক্রিনশট দ্রুত পুরনো হয়ে যায়।
বিশ্লেষণকে আরও নির্ভুল করতে নিচের চারটি কলাম রাখুন:
- মোট রান এবং ম্যাচসংখ্যা।
- ম্যাচপ্রতি রান ও অপরাজিত ইনিংস।
- চার, ছক্কা এবং স্ট্রাইক রেট।
- পরবর্তী তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষ ও ভেন্যু।
এই চারটি তথ্য একসঙ্গে রাখলে যশস্বী জয়সওয়ালের শক্তি এবং সমীর রিজভির ঝুঁকি আলাদা বোঝা যায়। রিজভি মাত্র দুই ম্যাচে ১৬০ রান করেছেন—এটি অসাধারণ সূচনা, কিন্তু একই হারে পুরো মৌসুম চালানো কঠিন। জয়সওয়ালের ১৭০ রান তিন ম্যাচে এসেছে, ফলে তাঁর নমুনা কিছুটা বড়, যদিও এখনও যথেষ্ট নয়। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ক্যাপিটালস এবং গুজরাট টাইটান্সের ম্যাচ-পরিস্থিতি নজরে রাখুন। অরেঞ্জ ক্যাপের আগের মৌসুমগুলোর তুলনা পড়লে বোঝা যায়, শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিক ইনিংসই প্রাথমিক বিস্ফোরণকে ছাড়িয়ে যায়। ক্রিকেট ভক্তের মতো তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ করলে অনুমান কমে, আর ভুল আত্মবিশ্বাসও কমে।
পরবর্তী ম্যাচের আগে এই চারটি সূচক মিলিয়ে নিলে সিদ্ধান্ত অনেক পরিষ্কার হবে।

এখন আইপিএল ২০২৬ রান তালিকা থেকে কী বোঝা যায়?
এখনকার তথ্য বলছে, যশস্বী জয়সওয়াল সবচেয়ে নিরাপদ শীর্ষ প্রার্থী, কিন্তু সমীর রিজভি সবচেয়ে বড় উত্থানের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। জয়সওয়ালের ১৭০ রান এসেছে তিন ম্যাচে এবং রিজভির ১৬০ রান এসেছে দুই ম্যাচে; মাত্র ১০ রানের ব্যবধান পুরো ছবিকে অনিশ্চিত রেখেছে। রোহিত শর্মা পঞ্চম স্থানে থাকায় বড় নামের চেয়ে বর্তমান ফর্মকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনও স্পষ্ট। তবু ৮ এপ্রিল ২০২৬-এর তালিকা দিয়ে মৌসুমের শেষ ফল অনুমান করা যাবে না। পিচের গতি, পাওয়ারপ্লেতে সুযোগ, টস, রান তাড়া করার পরিস্থিতি এবং দলের ব্যাটিং অর্ডার প্রত্যেক ইনিংসকে বদলে দিতে পারে। আইপিএল ২০২৬ খেলোয়াড় পরিসংখ্যান দেখার সময় আপডেটের তারিখ মিলিয়ে নিন। পুরনো গ্রাফিক, অসম্পূর্ণ সামাজিক পোস্ট এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার আগের সংখ্যা—এই তিনটি উৎস এড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
দায়িত্বশীল দর্শকের জন্য আরও একটি সীমা জরুরি। অরেঞ্জ ক্যাপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তথ্যভিত্তিক হওয়া উচিত; এটি কোনো নিশ্চিত ফল বা অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা নয়। ক্রিকেট ভক্তের ম্যাচ পর্যালোচনায় তাই সম্ভাবনা, অনিশ্চয়তা এবং নমুনার আকার স্পষ্ট রাখা দরকার। যদি কোনো প্ল্যাটফর্মে ক্রিকেট-সম্পর্কিত পূর্বাভাস বা অর্থের ঝুঁকি থাকে, স্থানীয় আইন, বয়সসীমা এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের নিয়ম আগে দেখুন। যশস্বী জয়সওয়ালের ৭৭, সমীর রিজভির ১৬০ এবং রোহিত শর্মার পঞ্চম অবস্থান—সবই যাচাইযোগ্য ক্রীড়া তথ্য; এগুলোকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী বানানো ঠিক নয়। এই পার্থক্য বোঝা একজন সাধারণ দর্শক এবং একজন শৃঙ্খলাবদ্ধ বিশ্লেষকের মধ্যে ফারাক তৈরি করে।
এই মুহূর্তে সেরা পদ্ধতি হলো তথ্য আপডেট করা, মতামত নয়।
পরের ধাপে তিনটি সম্ভাবনা কী?
পরবর্তী ধাপে তিনটি সম্ভাবনা সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত: জয়সওয়াল শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেন, রিজভি দ্রুত প্রথমে উঠতে পারেন, অথবা নতুন কোনো ব্যাটার ধারাবাহিক দুই ইনিংসে দুজনকেই ছাড়িয়ে যেতে পারেন। এই অনুমান ৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ১৭০, ১৬০ এবং পঞ্চম অবস্থানের তথ্যের ওপর দাঁড়ানো, চূড়ান্ত ফলের ওপর নয়। প্রথম সম্ভাবনায় রাজস্থান রয়্যালসের ওপেনিং জুটি ও জয়সওয়ালের ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। দ্বিতীয় সম্ভাবনায় দিল্লি ক্যাপিটালসের ম্যাচসংখ্যা রিজভিকে অতিরিক্ত সুযোগ দেবে। তৃতীয় সম্ভাবনায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, গুজরাট টাইটান্স বা অন্য দলের কোনো ব্যাটার একাধিক বড় ইনিংস খেললে তালিকা দ্রুত বদলাবে। ভবিষ্যৎবাণী যাচাই করতে প্রতিটি ম্যাচের পর এই তিনটি প্রশ্ন করুন: কে কত বল খেলল, কোন ওভারে রান করল, এবং পরের ম্যাচে তার ভূমিকা কী? এমন পদ্ধতি আবেগের বদলে তথ্যকে সামনে রাখে।
তিনটি সম্ভাবনাকে সংক্ষেপে সাজালে:
- যশস্বী জয়সওয়াল: বর্তমান শীর্ষস্থান ও তিন ম্যাচের ধারাবাহিকতা।
- সমীর রিজভি: দুই ম্যাচে ১৬০ রান, তাই দ্রুত ওঠার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা।
- নতুন চ্যালেঞ্জার: ধারাবাহিক দুই বড় ইনিংসেই তালিকার ভারসাম্য বদলাতে পারে।
কোনো একক ম্যাচকে পুরো মৌসুমের নমুনা ভাববেন না। আইপিএল ২০২৬ দীর্ঘ প্রতিযোগিতা, আর অরেঞ্জ ক্যাপ জিততে ধারাবাহিক সুযোগ কাজে লাগাতে হয়। সাপ্তাহিক ক্রিকেট পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ অনুসরণ করলে রান, ফর্ম এবং সূচির পরিবর্তন এক জায়গায় পাবেন। ক্রিকেট ভক্তের আপডেটের মূল্য এখানেই—সংখ্যা বদলালে মতও বদলাতে হবে। জয়সওয়াল এখন এগিয়ে, রিজভি খুব কাছে, আর রোহিত শর্মার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারকে কখনও পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায় না। তবে শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সর্বশেষ স্কোরকার্ড দেখুন।
পরবর্তী আপডেট না আসা পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে সৎ সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল এগিয়ে, কিন্তু দৌড় খোলা।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: আইপিএল ২০২৬ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক কে?
উত্তর: ৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত আইপিএল ২০২৬ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হলেন রাজস্থান রয়্যালসের যশস্বী জয়সওয়াল, তাঁর রান ১৭০। তিনি তিন ম্যাচে এই রান করেছেন এবং মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ৩২ বলে অপরাজিত ৭৭ রান করেন। সেই ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কা। তবে এটি মৌসুমের চলমান তালিকা, চূড়ান্ত ফল নয়। পরের ম্যাচেই সমীর রিজভি বা অন্য কোনো ব্যাটার তাঁকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন।
প্রশ্ন: সমীর রিজভি কত রান করে অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে আছেন?
উত্তর: সমীর রিজভি দুই ম্যাচে ১৬০ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপের দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন। তাঁর ম্যাচপ্রতি রান ৮০, যা যশস্বী জয়সওয়ালের ৫৬.৬৭ রানপ্রতি ম্যাচের চেয়ে বেশি। তবে রিজভির নমুনা ছোট, তাই একটি ব্যর্থ ইনিংসেও গড় দ্রুত কমতে পারে। দিল্লি ক্যাপিটালসের পরবর্তী ম্যাচগুলো তাঁর অবস্থান নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে।
প্রশ্ন: মোট রান আর ম্যাচপ্রতি রানের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: মোট রান একজন ব্যাটারের জমা করা সব রান দেখায়, আর ম্যাচপ্রতি রান সেই রানকে ম্যাচসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে। উদাহরণ হিসেবে, জয়সওয়ালের ১৭০ রান তিন ম্যাচে এবং রিজভির ১৬০ রান দুই ম্যাচে এসেছে। অরেঞ্জ ক্যাপের সরকারি তালিকায় মোট রানই প্রধান, কিন্তু খেলোয়াড়ের কার্যকারিতা তুলতে ম্যাচপ্রতি রানও দেখা উচিত। দুটো সংখ্যা একসঙ্গে না দেখলে বিশ্লেষণ অসম্পূর্ণ থাকে।
প্রশ্ন: আইপিএল ২০২৬ রানতালিকা আপডেট করার সঠিক উপায় কী?
উত্তর: প্রতিটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সরকারি স্কোরকার্ড, ম্যাচের তারিখ এবং মোট রান মিলিয়ে তালিকা আপডেট করুন। প্রথমে খেলোয়াড়ের রান লিখুন, এরপর ম্যাচসংখ্যা, অপরাজিত ইনিংস, স্ট্রাইক রেট এবং ব্যাটিং অবস্থান যোগ করুন। সামাজিক মাধ্যমের ছবিকে একমাত্র উৎস করবেন না, কারণ ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে বা সংশোধনের পরে সংখ্যায় পার্থক্য থাকতে পারে। ৮ এপ্রিল ২০২৬-এর মতো নির্দিষ্ট তারিখ লিখলে পুরনো ও নতুন তালিকা আলাদা করা সহজ হয়।
প্রশ্ন: অরেঞ্জ ক্যাপের সম্ভাবনা কি নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা যায়?
উত্তর: না, অরেঞ্জ ক্যাপের ফল নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। যশস্বী জয়সওয়াল ১৭০ রানে এগিয়ে থাকলেও সমীর রিজভি ১৬০ রান নিয়ে মাত্র ১০ রানে পিছিয়ে ছিলেন। ম্যাচসংখ্যা, চোট, ব্যাটিং অর্ডার, পিচ এবং দলের সূচি ফল বদলে দিতে পারে। তাই সম্ভাবনাকে তথ্যভিত্তিক অনুমান হিসেবে দেখুন, নিশ্চিত ফল বা অর্থের ঝুঁকির সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।
প্রশ্ন: রোহিত শর্মা কি ২০২৬ সালের শীর্ষ রান সংগ্রাহকের দৌড়ে ফিরতে পারেন?
উত্তর: রোহিত শর্মা পঞ্চম স্থান থেকে অবশ্যই দৌড়ে ফিরতে পারেন, যদি পরপর কয়েকটি বড় ইনিংস খেলেন। আইপিএলে একজন ওপেনারের হাতে বহু ম্যাচ ও বল পাওয়ার সুযোগ থাকে, তাই একটি ৭০ বা ৮০ রানের ইনিংস তালিকায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে শুধু নামের ভিত্তিতে তাঁকে শীর্ষ প্রার্থী বলা ঠিক নয়। তাঁর পরবর্তী ম্যাচের রান, স্ট্রাইক রেট এবং দলের ব্যাটিং ভূমিকা একসঙ্গে দেখা দরকার।