নো বল কেন রান বাড়ায়?
ক্রিকেটে নো বল হলো এমন অবৈধ ডেলিভারি, যাতে ব্যাটিং দল অন্তত ১ রান পায় এবং বলটি ওভারের বৈধ বল হিসেবে গণনা হয় না। এমসিসি ক্রিকেট আইন এবং আইসিসির আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, বোলারের ফ্রন্ট ফুট লাইনের ব...
নো বল কেন রান বাড়ায়?
ক্রিকেটে নো বল হলো এমন অবৈধ ডেলিভারি, যাতে ব্যাটিং দল অন্তত ১ রান পায় এবং বলটি ওভারের বৈধ বল হিসেবে গণনা হয় না। এমসিসি ক্রিকেট আইন এবং আইসিসির আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, বোলারের ফ্রন্ট ফুট লাইনের বাইরে পড়া, কোমরের ওপরে ফুল টস, নির্ধারিত সীমার বেশি বাউন্সার বা ভুল ফিল্ডিং অবস্থান নো বল হতে পারে। সাধারণ নো বলে ব্যাটার ৬ রান পর্যন্ত করতে পারেন, আর বলটি মিস হলে অতিরিক্ত হিসেবে ১ রান যোগ হয়। টি-টোয়েন্টি, একদিনের ম্যাচ ও টেস্টে মৌলিক নিয়ম একই হলেও বাউন্সার এবং ফ্রি হিটের প্রয়োগে প্রতিযোগিতাভেদে সীমা বদলাতে পারে। সিদ্ধান্ত বোঝার সময় আম্পায়ারের সংকেত, বলের উচ্চতা এবং পায়ের অবস্থান একসঙ্গে দেখুন।

ক্রিকেটে নো বলের হিসাব ছোট মনে হলেও ম্যাচের ফল ঘুরিয়ে দেয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, এমনকি ২০২৬ সালের আলোচিত ম্যাচগুলোতেও একটি নো বল থেকে অতিরিক্ত রান, ফ্রি হিট এবং নতুন কৌশল তৈরি হয়। ক্রিকেট ভক্ত সাইটে ম্যাচ বিশ্লেষণ, খেলোয়াড়ের পরিসংখ্যান এবং বোলিং কৌশল দেখার সময় এই নিয়মটি জানা বেশ কাজে লাগে। কারণ স্কোরবোর্ডে “এনবি” শুধু একটি অতিরিক্ত রান নয়; এটি ওভারের গতি, ব্যাটারের ঝুঁকি এবং বোলারের পরিকল্পনা বদলে দেয়।
আরও পরিষ্কার নিয়মভিত্তিক ক্রিকেট বিশ্লেষণ দেখতে নিচের পথে যান।
ধাপ ১: নো বলের কারণ শনাক্ত করুন
নো বলের প্রধান কারণ হলো বোলারের ডেলিভারি বা ফিল্ডিং অবস্থান ক্রিকেট আইনের সীমা ভাঙা। ফ্রন্ট ফুট পপিং ক্রিজের পেছনে না থাকলে নো বল হয়; একইভাবে কোমরের ওপরে বিপজ্জনক ফুল টস, মাথার ওপরে বাউন্সার এবং ভুল ফিল্ডিং বিন্যাসও কারণ হতে পারে। আইসিসির খেলার শর্তে নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতার জন্য আলাদা সীমা থাকতে পারে, তাই টেস্ট, একদিনের ম্যাচ ও টি-টোয়েন্টিকে এক নিয়মে মাপা ঠিক নয়। এমসিসির ক্রিকেটের আইন হলো মূল আইনি ভিত্তি, আর আইসিসি প্রতিযোগিতাভেদে সেটির ব্যবহারিক নির্দেশনা নির্ধারণ করে।
ফ্রন্ট ফুট নো বল সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বোলারের সামনের পায়ের কোনো অংশ ক্রিজের পেছনে মাটিতে স্পর্শ না করলে আম্পায়ার হাত পাশের দিকে ছড়িয়ে সংকেত দেন। পেছনের পা নির্দিষ্ট রিটার্ন ক্রিজের বাইরে গেলে সেটিও নো বল হতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু পা লাইনে স্পর্শ করেছে কি না নয়; পায়ের অবস্থান, মাটির সংযোগ এবং ডেলিভারির মুহূর্ত একসঙ্গে বিচার করা হয়। তৃতীয় আম্পায়ার প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সামান্য ব্যবধানও ধরা পড়ে, বিশেষত আইসিসি ইভেন্ট ও উচ্চমানের টি-টোয়েন্টিতে।
বোলারের হাত থেকে বল ছাড়ার পর ব্যাটারের কোমরের ওপরে গেলে সেটি সব সময় নো বল নয়। বলটি ফুল টস কি না, ব্যাটার ক্রিজে দাঁড়িয়ে কোথায় ছিলেন, এবং বলের গতিপথ বিপজ্জনক কি না—এসব বিবেচনা করা হয়। ধীরগতির বোলারের ক্ষেত্রে কোমরের উচ্চতা মাপার প্রযুক্তি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই মাঠে কার্যকর থাকে। ক্রিকেটে বোলিংয়ের মৌলিক কৌশল
নো বলের দ্রুত শনাক্তকরণ তালিকা
- ফ্রন্ট ফুট পপিং ক্রিজের সামনে পড়েছে।
- পেছনের পা রিটার্ন ক্রিজের বাইরে গেছে।
- কোমরের ওপরে বিপজ্জনক ফুল টস হয়েছে।
- নির্ধারিত বাউন্সারের সংখ্যা অতিক্রম হয়েছে।
- ডেলিভারির সময় ফিল্ডিং নিষেধাজ্ঞা ভাঙা হয়েছে।
- বোলার স্টাম্পের সামনে বা পেছনে অবৈধভাবে বল ছেড়েছেন।

ধাপ ২: নো বলে রান কীভাবে যোগ হয়?
নো বলে ব্যাটিং দল সাধারণত ১টি অতিরিক্ত রান পায়, এবং বলটি ওভারের বৈধ বল হিসেবে গণনা হয় না। ব্যাটার বল মেরে রান নিলে সেই রান আলাদাভাবে যোগ হয়; বলটি ব্যাটে না লাগলেও বাই, লেগ বাই বা বাউন্ডারি অনুযায়ী অতিরিক্ত রান বাড়তে পারে। যেমন, নো বলের সঙ্গে ব্যাটারের চার হলে মোট ৫ রান, ছক্কা হলে মোট ৭ রান। তবে বল ব্যাটে লেগে বাউন্ডারিতে গেলে স্কোরারের নোটেশনে চারটি রান ব্যাটারের নামে এবং নো বলের ১ রান অতিরিক্ত হিসেবে যায়।
এই জায়গায় একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য মনে রাখা দরকার। নো বলের সঙ্গে ব্যাটার দৌড়ে ২ রান নিলে মোট ৩ রান হয়, কিন্তু ব্যাটার বল স্পর্শ না করে দৌড়ালে অতিরিক্তের ধরন বদলাতে পারে। বল ব্যাটে না লাগলে নো বলের অতিরিক্ত রান এবং বাই বা লেগ বাই আলাদা নিয়মে নথিভুক্ত হয়। বল সীমানা পার হলে আম্পায়ার ও স্কোরার ঠিক করেন সেটি নো-বল বাউন্ডারি, বাই বাউন্ডারি নাকি ব্যাটারের শট। এই হিসাব না বুঝলে টেলিভিশন স্কোরবোর্ড অনেক সময় বিভ্রান্তিকর লাগে।
মনে রাখার সহজ সূত্র হলো: নো বলের মূল জরিমানা ১ রান, কিন্তু মোট ফল নির্ভর করে বলের পরবর্তী ঘটনায়। আইসিসির ম্যাচ প্লেয়িং কন্ডিশনে নো বলের রান “অতিরিক্ত” হিসেবে যুক্ত হয় এবং বৈধ বলের সংখ্যা কমে না। তাই ৬ বলের ওভারে একটি নো বল হলে বোলারকে আরও একটি বৈধ বল করতে হয়। ওভার শেষ হওয়ার আগে একাধিক নো বল হলে বৈধ বলের সংখ্যা একই থাকে, কিন্তু স্কোর বাড়তেই থাকে।
স্কোরিংয়ের এমন সূক্ষ্ম হিসাব নিয়ে নিয়মিত আপডেট পেতে ক্রিকেট ভক্তের ম্যাচ বিশ্লেষণ দেখুন।
নো বলের রান: তিনটি উদাহরণ
১. বল মিস, উইকেটকিপার বল ধরেছেন: ১ রান অতিরিক্ত, বৈধ বল নয়।
২. ব্যাটারের চার: নো বলের ১ রানসহ মোট ৫ রান।
৩. ব্যাটারের ছক্কা: নো বলের ১ রানসহ মোট ৭ রান।
ধাপ ৩: ফ্রি হিট কখন কার্যকর হয়?
ফ্রি হিট কার্যকর হয় যখন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ব্যাটার নো বলের পরের ডেলিভারি খেলেন। ওই বলটিতে সাধারণত রান আউট, স্টাম্পিং বা নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে রান আউট ছাড়া ব্যাটারকে বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ বা হিট উইকেটে আউট করা যায় না। ফ্রি হিট টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণ নিয়ম নয়; এটি মূলত টি-টোয়েন্টি ও একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচের খেলার শর্তে দেখা যায়।
ফ্রি হিটের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো, ব্যাটার কোনোভাবেই আউট হতে পারবেন না। বাস্তবে রান নেওয়ার সময় ক্রিজের বাইরে থাকলে রান আউট হতে পারেন, স্টাম্পিংয়ের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিও প্রযোজ্য হতে পারে, এবং বল ব্যাটে লেগে ক্যাচ হলেও সেই ক্যাচে সাধারণ আউট দেওয়া হয় না। ফ্রি হিটের ডেলিভারিটি নিজেই নো বল হলে পরের বল আবার ফ্রি হিট থাকে। অর্থাৎ নো বলের পুনরাবৃত্তি ফ্রি হিটের সুবিধা শেষ করে না।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ফ্রি হিটের সংকেত সাধারণত নো বলের পর আম্পায়ার দেন, কিন্তু ব্যাটার ভুল করে আগের ডেলিভারির ফিল্ডিং সাজানো দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ফিল্ডিং দলকে একই সীমার মধ্যে অবস্থান রাখতে হয়, যদিও নো বলের ধরন অনুযায়ী কিছু প্রয়োগভেদ থাকতে পারে। আইসিসির অফিসিয়াল খেলার শর্ত প্রতিযোগিতা অনুযায়ী ফ্রি হিটের ব্যবহার ব্যাখ্যা করে। এমসিসির ভাষায়, নো বল “ওভারের বৈধ বল হিসেবে গণনা হবে না”—ফ্রি হিটের ধারাবাহিকতা বোঝার মূল চাবিকাঠি এটাই।

ধাপ ৪: বাউন্সার ও উচ্চতার সীমা কীভাবে বুঝবেন?
বাউন্সারের সীমা প্রতিযোগিতা ও ফরম্যাটের ওপর নির্ভর করে, তাই শুধু বল একবার মাথার ওপর দিয়ে গেলেই নো বল বলা যায় না। আইসিসির আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাম্প্রতিক খেলার শর্তে প্রতি ওভারে নির্দিষ্ট সংখ্যক বাউন্সার অনুমোদিত থাকে; একদিনের ক্রিকেটে সেই সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। বল ব্যাটারের মাথার ওপর দিয়ে গেলে আম্পায়ার বাউন্সারের উচ্চতা, ব্যাটারের স্বাভাবিক অবস্থান এবং বলের গতি বিচার করেন।
কোমরের ওপরে ফুল টসের ক্ষেত্রে বল মাটিতে না পড়ে ব্যাটারের কোমরের উচ্চতা অতিক্রম করলে ঝুঁকি তৈরি হয়। ব্যাটার ক্রিজের ভেতরে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেখানকার কোমরের উচ্চতা বিবেচ্য; ব্যাটার সামনে এগিয়ে গেলে বা পিছিয়ে গেলে বিচার আরও জটিল হয়। দ্রুতগতির বোলারদের ইয়র্কার সামান্য উঁচু হয়ে গেলে প্রযুক্তি ও মাঠের আম্পায়ারের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। ধীরগতির বোলারের ফুল টসেও একই মূলনীতি প্রযোজ্য, কিন্তু বলের গতি ও বিপজ্জনকতার মূল্যায়ন আলাদা হতে পারে।
ফিল্ডিং সীমাও নো বলের উৎস। পাওয়ারপ্লেতে ৩০-গজ বৃত্তের বাইরে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি ফিল্ডার থাকলে ডেলিভারি অবৈধ হতে পারে। স্লিপ, লেগ সাইড এবং উইকেটকিপারের অবস্থানও কিছু পরিস্থিতিতে আইসিসির নিয়মের আওতায় পড়ে। তাই দর্শক শুধু বোলারের হাত নয়, ডেলিভারির আগে ফিল্ডিং সাজানোও দেখলে সিদ্ধান্ত বোঝা সহজ হয়। ক্রিকেট ভক্তের টি-টোয়েন্টি পাওয়ারপ্লে বিশ্লেষণ এই অংশটি আরও কাজে লাগতে পারে।
ফরম্যাটভেদে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন
- টেস্টে ফ্রি হিট সাধারণত নেই।
- টি-টোয়েন্টিতে বাউন্সারের সীমা আলাদা।
- একদিনের ক্রিকেটে পাওয়ারপ্লে ফিল্ডিং বিধি গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রতিযোগিতার খেলার শর্ত এমসিসির মূল আইনের ওপর অতিরিক্ত নির্দেশনা দেয়।
- আইসিসি ইভেন্টে তৃতীয় আম্পায়ার ফ্রন্ট ফুট যাচাই করতে পারেন।
ধাপ ৫: আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত কীভাবে যাচাই করবেন?
নো বল যাচাইয়ের প্রথম ধাপ হলো আম্পায়ারের সংকেত দেখা। আম্পায়ার দুই হাত পাশের দিকে ছড়িয়ে দিলে নো বল বোঝায়, আর সীমিত ওভারে পরের বল ফ্রি হিট কি না তা অতিরিক্ত সংকেত বা মাঠের ঘোষণায় পরিষ্কার হয়। ফ্রন্ট ফুটের ঘটনায় তৃতীয় আম্পায়ার রিপ্লে দেখেন; বল ছাড়ার মুহূর্তে পায়ের অবস্থান স্থির ফ্রেমে পরীক্ষা করা হয়।
প্রযুক্তিগত যাচাইয়ে তিনটি জিনিস আলাদা করে দেখতে হয়: পায়ের সামনের অংশ ক্রিজের তুলনায় কোথায় ছিল, পেছনের পা রিটার্ন ক্রিজ অতিক্রম করেছিল কি না, এবং বল ছাড়ার মুহূর্তটি সঠিকভাবে ধরা হয়েছে কি না। সম্প্রচার রিপ্লেতে আঁকা লাইন সব সময় মাঠের আসল পপিং ক্রিজের নিখুঁত প্রতিলিপি নয়; তাই দর্শকের চোখে নিরাপদ মনে হলেও তৃতীয় আম্পায়ার ভিন্ন সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। এই কারণেই আন্তর্জাতিক ম্যাচে আম্পায়ারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে প্রযুক্তিগত প্রোটোকল দিয়ে সমর্থন করা হয়।
সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলে খেলোয়াড় সরাসরি বিতর্ক না করে আম্পায়ারের সঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলতে পারেন। অধিনায়ক সাধারণত মাঠে সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন না, কারণ নো বল রিভিউয়ের সুযোগ প্রতিযোগিতার নিয়মে নির্ধারিত। ২০২৬ সালে সম্প্রচার ব্যবস্থায় উন্নত ক্যামেরা ও স্বয়ংক্রিয় ফ্রন্ট ফুট শনাক্তকরণ ব্যবহৃত হলেও সব প্রতিযোগিতায় একই প্রযুক্তি থাকে না। তাই ম্যাচ শুরুর আগে আইসিসি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট টুর্নামেন্টের খেলার শর্ত দেখা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।

সাধারণ ভুল কোথায় হয়?
নো বলের নিয়ম বুঝতে গিয়ে দর্শকরা সাধারণত রান, আউট এবং বৈধ বলের হিসাব একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলেন। সবচেয়ে প্রচলিত ভুল হলো, নো বলের সঙ্গে ব্যাটারের ছক্কাকে ৬ রান ভাবা; বাস্তবে মোট ৭ রান হয়, কারণ ১ রান অতিরিক্ত যোগ হয়। আবার অনেকে মনে করেন নো বল মানেই ফ্রি হিট, অথচ টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণ নো বলের পর ফ্রি হিট দেওয়া হয় না।
আরেকটি ভুল হলো, বল ব্যাটে না লাগলে সব রান বাই হিসেবে লেখা হবে ভাবা। নো বলের মূল ১ রান আলাদা অতিরিক্ত; পরের রান বাই, লেগ বাই বা নো-বল বাউন্ডারি হিসেবে নথিবদ্ধ হতে পারে। স্টাম্প ভাঙা, ক্যাচ নেওয়া বা বোল্ড হওয়ার ঘটনাও সব সময় বাতিল হয় না—নো বলের পরে রান আউট বৈধ হতে পারে, কিন্তু বোল্ড সাধারণত বৈধ আউট নয়। স্কোরবোর্ডে এনবি, বাই, লেগ বাই এবং ব্যাটারের রান আলাদা কলামে থাকার কারণ এখানেই।
বোলারদের জন্য বড় ভুল হলো রান আটকানোর বদলে একই ভুল দ্রুত পুনরাবৃত্তি করা। একটি নো বলের পর ব্যাটার ফ্রি হিট পেলে লাইন ও লেংথ বদলানো, ওয়াইড ইয়র্কার বা ধীরগতির বল বিবেচনা করা এবং ফিল্ডিং নিরাপদ রাখা যুক্তিযুক্ত। ব্যাটারের জন্য আবার ফ্রি হিটে অযথা বড় শট না খেলে ফিল্ডিং সীমা পড়ে নেওয়া বেশি লাভজনক। “ফ্রি হিট মানেই ছক্কা” এই ধারণা ক্রিকেটীয়ভাবে দুর্বল; পরিস্থিতি, ফিল্ড এবং বলের গতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিটি ম্যাচে ঘটনাটি যাচাই করতে ক্রিকেট স্কোরকার্ড পড়ার নিয়ম দেখুন।
ক্রিকেট ভক্তের দ্রুত যাচাই পদ্ধতি
নো বলের সিদ্ধান্ত দেখার সময় নিচের পাঁচ ধাপ অনুসরণ করলে বিভ্রান্তি কমবে।
১. প্রথমে আম্পায়ারের হাতের সংকেত দেখুন।
২. স্কোরবোর্ডে এনবি বা অতিরিক্ত রান যোগ হয়েছে কি না মিলিয়ে নিন।
৩. ফ্রন্ট ফুট হলে রিপ্লেতে বল ছাড়ার মুহূর্ত দেখুন।
৪. পরের ডেলিভারিতে ফ্রি হিট লেখা আছে কি না যাচাই করুন।
৫. ব্যাটারের রান ও অতিরিক্ত রান আলাদা করে হিসাব করুন।
এই পদ্ধতি দর্শক, কোচ এবং ক্রিকেট পরিসংখ্যান বিশ্লেষক—সবার জন্য কার্যকর। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের মতো দ্রুতগতির প্রতিযোগিতায় একটি নো বলের পরে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফিল্ড বদল, বোলিং পরিকল্পনা এবং ব্যাটিং ঝুঁকি পাল্টে যায়। ম্যাচ রিপোর্টে শুধু “নো বল হয়েছে” লিখলে তথ্য অসম্পূর্ণ থাকে; কোন কারণে, কত রান, ফ্রি হিট হয়েছে কি না এবং উইকেটের সিদ্ধান্ত কী ছিল—চারটি তথ্য রাখা উচিত। ক্রিকেট ভক্তের ম্যাচ পর্যালোচনায় এই চারটি স্তর আলাদা করে দেখলে পাঠক পুরো ঘটনাটি সহজে বুঝতে পারেন।
এমন নিয়মভিত্তিক বিশ্লেষণ সংরক্ষণ করতে এখনই বিস্তারিত পাতাটি দেখে নিন।
উপসংহার
ক্রিকেটে নো বলের নিয়মের কেন্দ্র তিনটি বিষয়: অবৈধ ডেলিভারির কারণ, অতিরিক্ত রানের হিসাব এবং পরের বলের বৈধতা। সাধারণ নো বলে ১ রান যোগ হয়, ওভারের বৈধ বল কমে না, আর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে পরের ডেলিভারি সাধারণত ফ্রি হিট হয়। তবে ফ্রন্ট ফুট, কোমরের উচ্চতা, বাউন্সারের সংখ্যা এবং ফিল্ডিং সীমা প্রতিযোগিতা অনুযায়ী যাচাই করতে হবে। এমসিসি মূল আইন নির্ধারণ করে, আইসিসি আন্তর্জাতিক খেলার শর্ত প্রয়োগ করে, আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রতিযোগিতার নিয়ম জানায়। স্কোরবোর্ড দেখার সময় এনবি, ব্যাটারের রান এবং বৈধ বল—এই তিনটি আলাদা রাখুন। তাহলেই নো বলের প্রভাব আর অস্পষ্ট থাকবে না।
আরও ক্রিকেট নিয়ম, ম্যাচ পর্যালোচনা ও খেলোয়াড়ের পরিসংখ্যান জানতে ক্রিকেট ভক্তের সঙ্গে থাকুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন: ক্রিকেটে নো বল কী?
উত্তর: ক্রিকেটে নো বল হলো বোলারের এমন অবৈধ ডেলিভারি, যাতে ব্যাটিং দল অন্তত ১ রান পায় এবং বলটি ওভারের বৈধ বল হিসেবে গণনা হয় না। ফ্রন্ট ফুট ক্রিজের বাইরে পড়া, কোমরের ওপরে বিপজ্জনক ফুল টস এবং নির্দিষ্ট সীমার বেশি বাউন্সার এর সাধারণ কারণ। নো বলের পর সীমিত ওভারের ম্যাচে সাধারণত ফ্রি হিট দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: নো বলে মোট কত রান পাওয়া যায়?
উত্তর: বল ব্যাটে না লাগলে সাধারণ নো বলে ১ রান পাওয়া যায়, তবে ব্যাটার রান বা বাউন্ডারি করলে মোট রান বাড়ে। নো বলের সঙ্গে চার হলে মোট ৫ রান এবং ছক্কা হলে মোট ৭ রান হয়। বলের অতিরিক্ত রান ও ব্যাটারের রান স্কোরকার্ডে আলাদা কলামে নথিবদ্ধ থাকে।
প্রশ্ন: নো বলের পর কি সব সময় ফ্রি হিট হয়?
উত্তর: সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নো বলের পরের ডেলিভারি সাধারণত ফ্রি হিট হয়, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণত এই নিয়ম নেই। ফ্রি হিটে ব্যাটার বোল্ড, ক্যাচ, এলবিডব্লিউ বা হিট উইকেটে সাধারণভাবে আউট হন না। তবে রান আউট এবং কিছু স্টাম্পিং পরিস্থিতি বৈধ থাকতে পারে।
প্রশ্ন: ফ্রন্ট ফুট নো বল কীভাবে বোঝা যায়?
উত্তর: বোলারের সামনের পায়ের কোনো অংশ পপিং ক্রিজের পেছনে মাটিতে না থাকলে ফ্রন্ট ফুট নো বল হয়। তৃতীয় আম্পায়ার বল ছাড়ার মুহূর্তের ভিডিও ফ্রেম দেখে সিদ্ধান্ত যাচাই করতে পারেন। টেলিভিশন রিপ্লেতে ক্রিজের রেখা, পায়ের অবস্থান এবং বল ছাড়ার সময় একসঙ্গে দেখা উচিত।
প্রশ্ন: কোমরের ওপরে ফুল টস কি সব সময় নো বল?
উত্তর: ব্যাটারের স্বাভাবিক অবস্থান অনুযায়ী কোমরের ওপরে বিপজ্জনক ফুল টস হলে সেটি নো বল হতে পারে। ব্যাটার ক্রিজে কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন, বলের গতি কত ছিল এবং ডেলিভারিটি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কি না—এসব বিষয় বিবেচনা করা হয়। প্রতিযোগিতার খেলার শর্ত ও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত এখানে চূড়ান্ত।
প্রশ্ন: নো বল হলে বোলারের ওভার কীভাবে গণনা হয়?
উত্তর: নো বল ওভারের বৈধ ছয় বলের মধ্যে গণনা হয় না। তাই ছয়টি বৈধ বল সম্পূর্ণ করতে বোলারকে নো বলের পর অতিরিক্ত বৈধ ডেলিভারি করতে হয়। উদাহরণ হিসেবে, একটি নো বলসহ ছয়টি বৈধ বল করতে মোট সাতটি ডেলিভারি লাগবে।
প্রশ্ন: নো বলে ব্যাটার বোল্ড হলে কী হয়?
উত্তর: নো বলের ডেলিভারিতে ব্যাটার বোল্ড হলেও সাধারণত আউট হন না, কারণ নো বল বৈধ ডেলিভারি নয়। ব্যাটিং দল নো বলের অন্তত ১ রান পায় এবং বলটি আবার করতে হয়। তবে নো বলের সময় রান আউটের মতো কিছু আউট বৈধ থাকতে পারে, তাই সব ধরনের উইকেটকে একইভাবে বাতিল করা ঠিক নয়।