কন্টেন্টে যান কন্টেন্টে যান
ক্রিকেট ভক্তের স্ট্রাইক রেট গাইড
ব্লগে ফিরে যান প্রবন্ধ

ক্রিকেট ভক্তের স্ট্রাইক রেট গাইড

ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট = মোট রান ÷ মুখোমুখি বল × ১০০; বোলিং স্ট্রাইক রেট = করা বল ÷ নেওয়া উইকেট। ক্রিকেটে এই দুই আলাদা পরিসংখ্যান একজন ব্যাটারের রান করার গতি এবং একজন বোলারের উইকেট নেওয়ার দক্ষতা বোঝায...

১৮ অক্টোবর, ২০২৬

ক্রিকেট ভক্তের স্ট্রাইক রেট গাইড

ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট = মোট রান ÷ মুখোমুখি বল × ১০০; বোলিং স্ট্রাইক রেট = করা বল ÷ নেওয়া উইকেট। ক্রিকেটে এই দুই আলাদা পরিসংখ্যান একজন ব্যাটারের রান করার গতি এবং একজন বোলারের উইকেট নেওয়ার দক্ষতা বোঝায়। যেমন, বিরাট কোহলি ৬০ বলে ৯০ রান করলে ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ১৫০; আর কোনো বোলার ৩০০ বল করে ১০ উইকেট নিলে বোলিং স্ট্রাইক রেট ৩০। ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি, টেস্ট, আইপিএল এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে একই মূল সূত্র প্রযোজ্য, তবে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলালে সংখ্যার অর্থও বদলে যায়। অতিরিক্ত, নো-বল ও ওয়াইড ব্যাটারের মুখোমুখি বলের হিসাবে সব সময় যোগ হয় না। তাই শুধু বড় স্ট্রাইক রেট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়; বলের মান, ইনিংসের পর্যায়, প্রতিপক্ষ এবং উইকেটের মূল্যও দেখুন।

A cricket scorecard beside a calculator showing runs, balls faced, and strike rate calculations

ক্রিকেট ভক্ত-এ ম্যাচ পর্যালোচনা, খেলোয়াড় পরিসংখ্যান, বিপিএল কভারেজ এবং ব্যাটিং-বোলিং কৌশল নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশিত হয়। স্ট্রাইক রেট বুঝতে প্রথমে স্কোরকার্ডের তিনটি ঘর দেখুন: রান, বল এবং উইকেট। ক্রিকেট পরিসংখ্যানের প্রাথমিক গাইড পড়লে ব্যাটিং গড়, অর্থনীতি এবং স্ট্রাইক রেটের পার্থক্য আরও পরিষ্কার হবে।

বিষয়টি একেবারে ব্যবহারিক। ২৫ বলে ৪০ রান দেখতে দ্রুত ইনিংস মনে হয়, কিন্তু একই ৪০ রান ২০ বলে হলে প্রভাব অনেক বেশি। আবার ২৪ বল করে ২ উইকেট নেওয়া বোলারের স্ট্রাইক রেট ১২; ৪৮ বল করে ২ উইকেট নেওয়া বোলারের ২৪। কম বোলিং স্ট্রাইক রেট এখানে ভালো। এই বিপরীত অর্থটাই অনেকে গুলিয়ে ফেলেন।

বিস্তারিত সূত্র এক জায়গায় দেখতে চাইলে নিচের তথ্যটি কাজে লাগবে।

আরও জানুন

স্ট্রাইক রেট কি সত্যিই ব্যাটিংয়ের গতি মাপে?

হ্যাঁ, ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট প্রতি ১০০টি বৈধ বলের বিপরীতে সম্ভাব্য রান-গতির একটি সূচক। ৮০ স্ট্রাইক রেট মানে ১০০ বলের সমতুল্য সুযোগে প্রায় ৮০ রান, আর ১৬০ মানে একই পরিমাপে ১৬০ রান। তবে এটি আউট হওয়ার ঝুঁকি, ম্যাচের ফল বা ইনিংসের মান একা প্রকাশ করে না।

ব্যাটিং স্ট্রাইক রেটের সূত্র খুব সরল:

  • ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট = রান ÷ মুখোমুখি বল × ১০০
  • ৪৮ বলে ৭২ রান হলে = ৭২ ÷ ৪৮ × ১০০ = ১৫০
  • ৩২ বলে ২৮ রান হলে = ২৮ ÷ ৩২ × ১০০ = ৮৭.৫০

এখানে রান বলতে ব্যাটারের স্কোরবোর্ডে যোগ হওয়া রান বোঝায়। দলীয় বাই, লেগ-বাই এবং পেনাল্টি রান ব্যাটারের ব্যক্তিগত রান নয়। নো-বলে ব্যাটার চার বা ছয় মারলে ব্যাটারের রান যোগ হবে, কিন্তু নো-বলের অতিরিক্ত এক রান আলাদা থাকবে। ক্রিকেটের আইন অনুযায়ী বৈধ বল এবং অবৈধ বলের পার্থক্য স্কোরিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের নিয়মে নো-বল সাধারণত ব্যাটারের মুখোমুখি বল হিসেবে গণনা হয় না।

শচীন টেন্ডুলকারের টেস্ট ব্যাটিং এবং এবি ডি ভিলিয়ার্সের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং তুলনা করতে একই স্ট্রাইক রেট ব্যবহার করা যায় না। টেস্টে ৬৫ অনেক সময় ম্যাচ-জেতানো হতে পারে; টি-টোয়েন্টিতে ১০৫ ধীর মনে হতে পারে। তাই ফরম্যাট, পাওয়ারপ্লে, মিডল ওভার এবং ডেথ ওভার আলাদা করে দেখা জরুরি। ব্যাটিং গড় বনাম স্ট্রাইক রেট এই তুলনায় ভালো সহায়তা দেবে।

নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্ট্রাইক রেট কীভাবে কাজ করে?

স্কোরকার্ডে ব্যাটারের রান এবং বৈধ বল মুখোমুখি হওয়ার সংখ্যা নিয়ে ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট হিসাব হয়; ওয়াইডে বলটি ব্যাটারের কাছে পৌঁছালেও সেটি সাধারণত মুখোমুখি বল নয়। নো-বলে ব্যাটার রান করলে সেই রান যোগ হয়, কিন্তু নো-বলের অতিরিক্ত রান ব্যাটারের ব্যক্তিগত স্কোর নয়। ফলে বল গণনার সূক্ষ্মতা চূড়ান্ত ফল বদলে দিতে পারে।

ধরা যাক, সাকিব আল হাসান ৩৫ বলে ৫৬ রান করেছেন। এর মধ্যে একটি নো-বলে চার এসেছে এবং একটি ওয়াইড হয়েছে। তাঁর স্ট্রাইক রেট হবে ৫৬ ÷ ৩৫ × ১০০ = ১৬০, যদি স্কোরকার্ডে ৩৫-ই বৈধ মুখোমুখি বল দেখায়। ওয়াইডের জন্য বল বাড়বে না। কিন্তু ব্যাটার যদি নো-বলে রান না করে শুধু বল মিস করেন, প্রচলিত স্কোরিংয়ে সেই অবৈধ বলও ব্যক্তিগত বলের হিসাবে যোগ হয় না।

ইনিংসের শেষ বলের রান-আউটও গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটার শট খেলে দৌড়ালে বলটি বৈধ হলে মুখোমুখি বল যোগ হবে, রান পূর্ণ না হলেও। একইভাবে, বাই বা লেগ-বাইয়ে দল রান পেলেও ব্যাটারের রান বাড়ে না; বৈধ বল হলে বলের সংখ্যা বাড়তে পারে। এই কারণেই সংবাদ প্রতিবেদনের গোল সংখ্যা দেখে হাতে হিসাব করলে ভুল হতে পারে। অফিসিয়াল স্কোরকার্ডের রান ও বল—এই দুটি সংখ্যাই নিন।

নিচের দ্রুত যাচাই তালিকাটি ব্যবহার করুন:

১. ব্যাটারের ব্যক্তিগত রান লিখুন।
২. মুখোমুখি বৈধ বলের সংখ্যা নিন।
৩. রানকে বল দিয়ে ভাগ করুন।
৪. ফলকে ১০০ দিয়ে গুণ করুন।
৫. দুই ঘর দশমিক পর্যন্ত ফল প্রকাশ করুন।

এই পদ্ধতি বিরাট কোহলি, বাবর আজম, তামিম ইকবাল বা বিপিএলের যে কোনো ব্যাটারের ক্ষেত্রে একই। তথ্য যাচাইয়ের জন্য ইএসপিএনক্রিকইনফো স্কোরকার্ড ব্যবহার করা যায়।

হিসাবের ধাপ হাতে মিলিয়ে নিতে চাইলে এই সংক্ষিপ্ত সহায়তাটি দেখুন।

হিসাবের নিয়ম দেখুন

বোলিং স্ট্রাইক রেটের ব্যতিক্রম কী?

বোলিং স্ট্রাইক রেট একজন বোলার গড়ে কত বল পরপর একটি উইকেট নেন তা বোঝায়। সূত্র হলো করা বৈধ বল ÷ ক্রেডিট পাওয়া উইকেট। রান-আউট, ক্যাচ ছাড়া অবসর নেওয়া এবং কিছু বিশেষ আউট বোলারের উইকেট হিসেবে গণনা হয় না; তাই স্কোরকার্ডের মোট পতিত উইকেট দিয়ে সরাসরি হিসাব করা ভুল হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, মুস্তাফিজুর রহমান ২৪ বল করে ৩টি ক্রেডিটযোগ্য উইকেট নিলে তাঁর বোলিং স্ট্রাইক রেট ৮। একই বোলার ২৪ বল করে ১ উইকেট নিলে ফল ২৪। এখানে ৮ সংখ্যাটি ভালো, কারণ কম বলেই উইকেট এসেছে। বোলিং গড়ে যেখানে প্রতি উইকেটে রান খরচ দেখা হয়, সেখানে বোলিং স্ট্রাইক রেটে প্রতি উইকেটে বলের সংখ্যা দেখা হয়। অর্থনীতি আবার প্রতি ওভারে রান খরচ মাপে। তিনটি সূচক একসঙ্গে দেখলেই বোলারের পূর্ণ ছবি পাওয়া যায়।

বিশেষ আউটের ক্ষেত্রে পুরনো ও নতুন স্কোরকার্ডে বিভ্রান্তি দেখা যায়। আইসিসির আন্তর্জাতিক ম্যাচ নীতিমালা এবং উইকিপিডিয়ার ক্রিকেট পরিসংখ্যান ব্যাখ্যা অনুযায়ী বোলারের ক্রেডিটযোগ্য উইকেট আলাদা করে বিবেচনা করতে হয়। সরাসরি নিয়মটি মনে রাখুন: “সব আউট বোলারের উইকেট নয়।” রান-আউট হলে দলের উইকেট কমে, কিন্তু বোলারের ব্যক্তিগত উইকেট নাও বাড়তে পারে।

টি-টোয়েন্টিতে ২৪ বলের স্পেল এবং টেস্টে ১২০ বলের স্পেল একইভাবে পড়া যায় না। আইপিএল, বিপিএল এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৮–১২ স্ট্রাইক রেট সাধারণত শক্তিশালী উইকেট-নেওয়া দক্ষতার সংকেত, কিন্তু পিচ, ব্যাটিং ক্রম ও প্রতিপক্ষের মান বিবেচনা জরুরি। নির্দিষ্ট মৌসুম বা সিরিজের তুলনায় একই ফরম্যাটের গড় বেশি নির্ভরযোগ্য।

Bangladesh fast bowler delivering under stadium lights while a scoreboard displays wickets and balls

কোন জায়গায় স্ট্রাইক রেট ব্যর্থ হয়?

স্ট্রাইক রেট একা খেলোয়াড়ের কার্যকারিতা নির্ধারণ করতে পারে না, কারণ এটি ম্যাচের পরিস্থিতি, উইকেটের মূল্য, প্রতিপক্ষের মান এবং ইনিংসের ভূমিকা বাদ দেয়। ২০০ স্ট্রাইক রেটে ২০ রান করা ব্যাটার সব সময় ১২০ স্ট্রাইক রেটে ৮০ রান করা ব্যাটারের চেয়ে বেশি মূল্যবান নন। একইভাবে, ১০ স্ট্রাইক রেটের বোলার ৫ উইকেট নিলে ১৫ স্ট্রাইক রেটের ২ উইকেট নেওয়া বোলারের চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারেন।

প্রথম বড় সমস্যা হলো নমুনার আকার। ৬ বলে ১২ রান করলে স্ট্রাইক রেট ২০০, কিন্তু একটি ওভারের এই ফল দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতার প্রমাণ নয়। ৫০০ বলের পরিসংখ্যান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। দ্বিতীয় সমস্যা হলো ভূমিকা: ওপেনার নতুন বল সামলান, ফিনিশার শেষ পাঁচ ওভারে ঝুঁকি নেন, আর টেস্টের টেলএন্ডার বাঁচার চেষ্টা করেন। একই সংখ্যা তাই ভিন্ন অর্থ বহন করে।

তৃতীয় সমস্যা হলো পরিস্থিতিগত মূল্য। ২০২৬ সালের একটি টি-টোয়েন্টিতে শেষ ১২ বলে ২২ রান করা ইনিংস দলকে জিতিয়ে দিতে পারে, যদিও সামগ্রিক স্ট্রাইক রেট ১০৮। বিপরীতে, পাওয়ারপ্লেতে ১৫ বলে ২৮ রান ভালো হলেও মাঝের ওভারে একই গতি দলকে চাপের মধ্যে ফেলতে পারে। উইকেট হারানোর হার, ডট বল, বাউন্ডারি শতাংশ এবং জয়ের সম্ভাবনা সঙ্গে রাখুন।

শুধু স্ট্রাইক রেট দিয়ে বাজি বা ম্যাচ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিপক্ষের বোলিং শক্তি, মাঠের আকার, টস, শিশির এবং লক্ষ্য—সবই ফল পাল্টায়। ক্রিকেট ভক্ত-এর ম্যাচ বিশ্লেষণে তাই স্ট্রাইক রেটের পাশে গড়, ডট বল শতাংশ, বাউন্ডারি সংখ্যা এবং উইকেট পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখা উচিত।

দুটি বাস্তব সতর্কতা মনে রাখুন:

  • নট-আউট ব্যাটারের স্ট্রাইক রেট হিসাব করা যায়; নট-আউট হওয়া সূত্র বদলায় না।
  • শূন্য বলে শূন্য রান হলে স্ট্রাইক রেট গণনাযোগ্য নয়; ভাগের হর শূন্য হয়।

আরও গভীর বিশ্লেষণের জন্য টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বিশ্লেষণের মেট্রিক কাজে লাগতে পারে।

আজ কি স্ট্রাইক রেট ব্যবহার করা উচিত?

হ্যাঁ, স্ট্রাইক রেট আজও ব্যবহারযোগ্য—তবে এটি একক সিদ্ধান্তের মানদণ্ড নয়। ব্যাটিংয়ে রান, বল, গড়, ডট বল ও ম্যাচের পর্যায়; বোলিংয়ে বল, উইকেট, অর্থনীতি ও ক্রেডিটযোগ্য আউট একসঙ্গে দেখলে পরিসংখ্যান যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য হয়। ফরম্যাটভিত্তিক তুলনা করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

একজন বিশ্লেষকের জন্য ব্যবহারিক ধাপগুলো এমন:

১. একই ফরম্যাটের তথ্য নিন—টি-টোয়েন্টির সঙ্গে টেস্ট মিলাবেন না।
২. কমপক্ষে ১০ ইনিংস বা বড় বল-নমুনা দেখুন।
৩. পাওয়ারপ্লে, মিডল ওভার এবং ডেথ ওভার আলাদা করুন।
৪. ব্যাটারের স্ট্রাইক রেটের সঙ্গে আউটের হার মিলিয়ে দেখুন।
৫. বোলারের স্ট্রাইক রেটের সঙ্গে অর্থনীতি ও বোলিং গড় মিলিয়ে দেখুন।
৬. প্রতিপক্ষ, মাঠ এবং ম্যাচের লক্ষ্য নোট করুন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক ধারণা হলো প্রত্যাশিত স্ট্রাইক রেট। কোনো ব্যাটার ১৪০ করেছেন শুনলেই সিদ্ধান্ত নেবেন না; একই ম্যাচে গড় যদি ১৬৫ হয়, তবে ১৪০ হয়তো ধীর। আবার গড় ১১০ হলে ১৪০ দুর্দান্ত। এই তুলনামূলক ভিত্তি সাধারণ স্কোরকার্ডে সব সময় দেখা যায় না—এখানেই ম্যাচ-প্রসঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণের বাড়তি মূল্য।

Analyst reviewing a T20 cricket scorecard with phase-by-phase batting and bowling statistics

ক্রিকেট ভক্ত-এর পাঠকের জন্য সেরা নিয়মটি সহজ: প্রথমে সূত্র ঠিক করুন, পরে স্কোরকার্ড যাচাই করুন, সবশেষে পরিস্থিতি বিচার করুন। আইসিসি, ইএসপিএনক্রিকইনফো এবং মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের তথ্যভিত্তিক সংজ্ঞা ব্যবহার করলে ভুল কমবে। স্ট্রাইক রেট দ্রুততা দেখায়; দক্ষতা বোঝার জন্য তার পাশে প্রভাব, ধারাবাহিকতা এবং ম্যাচের ফলও রাখতে হবে।

এই পদ্ধতিতে নিজের ম্যাচ বিশ্লেষণ শুরু করতে পারেন।

বিশ্লেষণ শুরু করুন

ক্রিকেটে স্ট্রাইক রেট: দ্রুত সূত্র

ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ও বোলিং স্ট্রাইক রেটের মূল পার্থক্য হলো প্রথমটি রান করার গতি, দ্বিতীয়টি উইকেট নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বল মাপে। ব্যাটিংয়ে বেশি সংখ্যা সাধারণত ভালো; বোলিংয়ে কম সংখ্যা সাধারণত ভালো। ভুল এড়াতে রান, বৈধ বল এবং বোলারের ক্রেডিটযোগ্য উইকেট আলাদা করে লিখুন।

পরিসংখ্যান সূত্র ভালো ফলের সাধারণ অর্থ
ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট রান ÷ মুখোমুখি বল × ১০০ বেশি হলে দ্রুত রান
বোলিং স্ট্রাইক রেট করা বল ÷ উইকেট কম হলে দ্রুত উইকেট
ব্যাটিং গড় রান ÷ আউট আউটপ্রতি গড় রান
বোলিং অর্থনীতি রান ÷ ওভার প্রতি ওভারে খরচ

এই চারটি সংখ্যার মধ্যে কোনোটি একা ম্যাচের সত্য নয়। ২০২৬ সালের বিপিএল ম্যাচ, আইপিএল ম্যাচ বা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্লেষণে ইনিংসের পর্যায় এবং লক্ষ্য-রান না জানলে সঠিক সিদ্ধান্ত অসম্ভব। স্কোরকার্ডের তথ্যকে প্রসঙ্গের সঙ্গে পড়ুন—এটাই আসল নিয়ম।

চূড়ান্ত রেফারেন্স হিসেবে আইসিসির অফিসিয়াল ক্রিকেট তথ্যভান্ডার এবং মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের নিয়মাবলি দেখা যায়। সংজ্ঞা, হিসাব এবং ম্যাচ পরিস্থিতি—এই তিন স্তর মিললেই স্ট্রাইক রেট সত্যিকারের কার্যকর বিশ্লেষণী সরঞ্জাম হয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: ক্রিকেটে ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট কী?

উত্তর: ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট হলো একজন ব্যাটার প্রতি ১০০ মুখোমুখি বলে কত রান করার গতি দেখান তার পরিমাপ। সূত্রটি হলো রান ÷ মুখোমুখি বল × ১০০। ৩০ বলে ৪৫ রান করলে স্ট্রাইক রেট ১৫০ হয়। তবে ফরম্যাট, ইনিংসের পর্যায় এবং দলের লক্ষ্য না জানলে ১৫০ সংখ্যার পূর্ণ মূল্য বোঝা যায় না।

প্রশ্ন: ক্রিকেটে স্ট্রাইক রেট কীভাবে হিসাব করব?

উত্তর: ব্যাটারের রানকে মুখোমুখি বল দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ করুন। যেমন ৪০ বলে ৬০ রান হলে ৬০ ÷ ৪০ × ১০০ = ১৫০। স্কোরকার্ড থেকে বাই, লেগ-বাই, ওয়াইড এবং নো-বলের অতিরিক্ত রান আলাদা করে দেখুন, কারণ এগুলো ব্যাটারের ব্যক্তিগত রান বা বলের সংখ্যা বদলাতে পারে।

প্রশ্ন: ব্যাটিং ও বোলিং স্ট্রাইক রেটের পার্থক্য কী?

উত্তর: ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট বেশি হলে সাধারণত দ্রুত রান বোঝায়, আর বোলিং স্ট্রাইক রেট কম হলে কম বলে উইকেট বোঝায়। ব্যাটিং সূত্র রান ÷ বল × ১০০; বোলিং সূত্র বল ÷ ক্রেডিটযোগ্য উইকেট। রান-আউট বোলারের উইকেট হিসেবে গণনা না-ও হতে পারে, তাই পতিত মোট উইকেট দিয়ে বোলিং স্ট্রাইক রেট হিসাব করবেন না।

প্রশ্ন: নো-বল ও ওয়াইড কি স্ট্রাইক রেটে গণনা হয়?

উত্তর: ওয়াইড সাধারণত ব্যাটারের মুখোমুখি বল হিসেবে গণনা হয় না, আর নো-বলের অতিরিক্ত রান ব্যাটারের ব্যক্তিগত রানে যোগ হয় না। নো-বলে ব্যাটার চার বা ছয় করলে সেই ব্যাটিং রান অবশ্যই যোগ হবে। চূড়ান্ত হিসাবের জন্য সংবাদ প্রতিবেদনের বদলে অফিসিয়াল স্কোরকার্ডের রান ও বলের সংখ্যা ব্যবহার করুন।

প্রশ্ন: বেশি ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট কি সব সময় ভালো?

উত্তর: বেশি ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট সব সময় ভালো নয়, কারণ আউটের ঝুঁকি ও ম্যাচের পরিস্থিতিও বিবেচনা করতে হয়। ২০ বলে ৪০ রান এবং ৮০ বলে ১০০ রান—দুটির মূল্য লক্ষ্য, উইকেট ও ইনিংসের পর্যায় অনুযায়ী বদলাতে পারে। অন্তত রান, বল, গড়, ডট বল এবং দলের ফল একসঙ্গে দেখুন।

প্রশ্ন: বোলিং স্ট্রাইক রেট কম হলে কি বোলার সেরা?

উত্তর: কম বোলিং স্ট্রাইক রেট সাধারণত দ্রুত উইকেট নেওয়ার শক্তি দেখায়, কিন্তু একা সেরা বোলার নির্ধারণ করে না। অর্থনীতি, বোলিং গড়, প্রতিপক্ষের মান এবং ম্যাচের পর্যায়ও গুরুত্বপূর্ণ। ১২ স্ট্রাইক রেটের বোলার যদি প্রতি ওভারে ১১ রান দেন, তবে ১৮ স্ট্রাইক রেটের নিয়ন্ত্রিত বোলার দলকে বেশি উপকার করতে পারেন।

প্রশ্ন: শূন্য বলে শূন্য রান হলে স্ট্রাইক রেট কত?

উত্তর: শূন্য বলে শূন্য রান হলে স্ট্রাইক রেট নির্ণয় করা যায় না, কারণ শূন্য দিয়ে ভাগ করা সম্ভব নয়। কোনো ব্যাটার বল না খেলেই রান না করলে তার জন্য অর্থপূর্ণ ব্যক্তিগত স্ট্রাইক রেট তৈরি হয় না। বিপরীতে, নট-আউট ব্যাটার এক বা একাধিক বল খেললে স্বাভাবিক সূত্রে তার স্ট্রাইক রেট হিসাব করা যায়।

স্ট্রাইক রেটের সূত্র পরিষ্কার, কিন্তু ক্রিকেটের অর্থ সব সময় প্রেক্ষাপটনির্ভর। ক্রিকেট ভক্ত-এ পরিসংখ্যান পড়ার সময় স্কোরকার্ড, ফরম্যাট এবং ম্যাচের পরিস্থিতি একসঙ্গে রাখুন। তাহলেই ১৫০ বা ১২—দুটিই কেবল সংখ্যা না থেকে কার্যকর ক্রিকেট-তথ্যে বদলে যাবে।

আরও ক্রিকেট পরিসংখ্যান ও ম্যাচ বিশ্লেষণ পেতে এখানে দেখুন।

ক্রিকেট তথ্য দেখুন

সব প্রবন্ধে ফিরে যান
আমাদের ব্লগে আরও প্রবন্ধ অন্বেষণ করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ